মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে মৃত্যু ও দুর্ভোগকে গোটা ‘মানব পরিবারের জন্য কলঙ্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন পোপ চতুর্দশ লিও। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চার সপ্তাহে গড়িয়েছে। চলমান যুদ্ধ নিয়ে প্রথম এই মার্কিন পোপ বলেন, যুদ্ধ ও সহিংসতায় ভেঙে পড়া মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি তিনি ‘হতাশা’ নিয়ে খেয়াল করে চলেছেন।
রোববার ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সাপ্তাহিক অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনা সভায় পোপ বলেন, “এত মানুষের দুর্ভোগ এবং নিরপরাধ মানুষদের এই সংঘাতের শিকার হওয়ার মুখে আমরা চুপ থাকতে পারি না। তাদেরকে যা কষ্ট দিচ্ছে, তা গোটা মানবজাতিকেই কষ্ট দিচ্ছে।”
ইরানের সামরিক অ্যাটাশে ও তার উপদেষ্টার পাশাপাশি তিন কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে তেহরান ও রিয়াদের সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন শুরুর মধ্যে এ খবর এল।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিদিন তাদের লক্ষ্য করে গড়ে ৫০টি হামলার ঘটনা ঘটছে।
“আত্মরক্ষার স্বার্থে পাল্টা আঘাতের অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের আরো কয়েকজন নেতাও তাই মনে করেন।”
সব মিলিয়ে সমঝোতা বা কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা ক্রমে ক্ষীণ হয়ে আসছে বলেও বিবৃতিতে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
তেহরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার’ যে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, তার পাল্টা হুমকি এসেছে ইরানের পক্ষ থেকেও।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, আমেরিকা হামলা চালালে ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি আর খোলা হবে না।
ইরান বলছে, তাদের শত্রু ছাড়া সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত।
ইরানে যুদ্ধের দশম দিনে বাহরাইনে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার পেছনে কোনও ইরানি ড্রোন নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দায়ী ছিল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করে দেখা গবেষকদের এক বিশ্লেষণে এ দাবি করা হয়েছে।
৯ মার্চে ভোররাতের ওই বিস্ফোরণে শিশুসহ ৩২ জন আহত হওয়া ছাড়াও বাড়িঘর ভেঙে পড়েছিল। এই হামলার জন্য বাহরাইন এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ইরানের ড্রোনকে দায়ী করেছিল। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য ছিল, ইরানের ড্রোন বাহরাইনের আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে।
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বাহরাইন সরকার শনিবার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, সিতরা দ্বীপে মাহাজ্জা এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারির ছোড়া ইন্টাসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ঘটেছিল।
তবে এক বিবৃতিতে বাহরাইন সরকারের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে একটি ইরানি ড্রোনকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করেছে। যার ফলে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, “মানুষ আহত হওয়া বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর বা ইরানি ড্রোনের সরাসরি মাটির ওপর আছড়ে পড়ার কারণে ঘটেনি বরং আকাশে সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ার কারণে ঘটেছে।”
তবে মাহাজ্জায় বিস্ফোরণের ঘটনা ইরানি ড্রোনের কারণে ঘটেছে এমন কোনও প্রমাণ বাহরাইন কিংবা ওয়াশিংটন কেউই দিতে পারেনি।
ইরানে যুদ্ধ চার সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতদিনেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির জনসম্মুখে না আসা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এবার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নওরুজ (পারস্য নববর্ষ) উদযাপনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ এবং ইসরায়েলের মোসাদসহ বিশ্বজুড়ে অন্যান্য গোয়েন্দাসংস্থাগুলো উৎসুক ছিল মুজতাবা কী করেন তা দেখতে।
মুজতাবা তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতো ঐতিহ্য মেনে নওরুজের ভাষণ দেন কিনা নজর ছিল সেদিকে। কিন্তু মুজতাবার কাছ থেকে কেবল একটি লিখিত বিবৃতি আসার মধ্য দিয়ে দিনটি পার হওয়ায় তার শারিরীক অবস্থা, ভূমিকা এবং তিনি কোথায় আছেন তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মুজতাবার এই ছায়াঘেরা অবস্থান বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। মুজতাবার খোঁজ চালিয়ে তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আভাস পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে সিআইএ, মোসাদ ও অন্যান্য গোয়েন্দ সংস্থাগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে নিউজ সাইট অ্যাক্সিওস। ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, “মুজতাবাই যে আসলে নির্দেশ দিচ্ছেন এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও প্রমাণ নেই।”
মুজতাবাকে নিয়ে সাম্প্রতিক মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি (মুজতাবা) বেঁচে আছেন ঠিকই, কিন্তু ইরানে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ তার হতে নেই।
‘দ্য জেরুসালেম পোস্ট পত্রিকায় দুই সূত্র দাবি করেছে, বর্তমানে ইরান পরিচালনার ক্ষমতা আছে রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-এর (আইআরজিসি) হাতে। এক সূত্র বলেছে, রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীই হয়ত মুজতাবাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিষয়টি আসলে কি তা শিগগিরই স্পষ্ট হবে বলে তিনি দাবি করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল এবং মার্কিন হানায় নিহত হওয়ার পর গত ৯ মার্চ তার ছেলে মুজতবাকে সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার প্রথম বিবৃতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় ১২ মার্চে। আর ২০ মার্চে আসে নওরুজের লিখিত বার্তা। সেটিও প্রচার হয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে। এতে মুজতাবার শারিরীক অবস্থা এবং তিনি কোথায় আছেন তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের আরাদ শহরে ধ্বংসস্তূপের একটি স্থান পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ওই স্থানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে বিশ্বনেতাদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহু দাবি করেন, কিছু দেশ ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধে অংশগ্রহণের দিকে এগোচ্ছে। তিনি আরও ব্যাপক আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতার ওপর জোর দিয়েছেন।
ইরানের হামলার পর বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ এনেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এও বলেন, ইউরোপের অভ্যন্তরে দীর্ঘপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতা রয়েছে ইরানের।
যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কিছু জাহাজ থেকে ইরান ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করছে বলে দেশটির এক এমপি আলাউদ্দিন বোরুজার্দি দাবি করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি এ দাবি করেন বলে বিবিসি লিখেছে।
আলাউদ্দিন বোরুজার্দি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘নতুন শাসন ব্যবস্থা’ জারি করা হচ্ছে এবং ‘যুদ্ধের খরচ আছে’। এটি ইরানের কর্তৃত্ব ও অধিকার প্রকাশ করে।
ইরানি এ এমপির দাবির সত্যতা যাচাই করতে না পারার কথা লিখেছে বিবিসি।
যুদ্ধের শুরুর দিন থেকেই ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ ইরানে, যা এখনো সচল হয়নি।
যুদ্ধ এরইমধ্যে ২৩তম দিনে গড়িয়েছে।
রোববার ইন্টারনেট মনিটরিং গ্রুপ নেটব্লকস বলছে, ইরানের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার রেকর্ড এটি। এর আগে জানুয়ারি মাসে ইরানে বিক্ষোভের সময়ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এবার সেটি ছাপিয়ে গেছে।
জাতিসংঘের সমুদ্র বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনকে (আইএমও) ইরানের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত কিন্তু ইরানের ‘শত্রুদের’ জন্য নয়।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘পুরোপুরি খুলে’ না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার ট্রাম্প ওই হুমকি দেওয়ার পর রোববার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি আলি মুসাভি ওই কথা জানিয়েছেন বলে খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ইরানি হুমকির মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ আছে। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযোগকারী, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ প্রণালিটি উভয় পাশে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বহু জাহাজ আটকা পড়ে আছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের এই জলপথটি বন্ধ হয়ে থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত প্রকৃতিক গ্যাসের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মুসাভি আইএমওকে বলেছেন, ইরান পারস্য উপসাগরে নাবিকদের সুরক্ষায় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার উন্নতিতে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেছেন, ইরানের ‘শত্রুদের’ সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন সব জাহাজ তেহরানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে।
ইসরায়েলের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র যে শহরে সেই ডিমোনায় ও নিকটবর্তী আরাদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শতাধিক ইসরায়েলি আহত হয়েছেন বলে দেশটির উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন।
এই হামলার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের অন্যতম নাটকীয় বৃদ্ধি বলে উল্লেখ করেছে আল জাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম শনিবার ডিমোনায় চালানো এই আক্রমণকে একই দিন এর আগে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কমপ্লেক্সে ইসরায়েলের চালানো হামলার ‘প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলে এয়ার ডিফেন্স ইরানের ছোড়া অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো ডিমোনা ও আরাদে আঘাত হানে। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর।
ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, আরাদে অন্তত ৮৮ জন আহত হয়েছে আর তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শহরটির কেন্দ্রস্থল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খবর।
ডিমোনায় আরও ৩৯ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক বালকের অবস্থা সঙ্কটজনক বলে চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন। এখানে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।
কাতারের উপকূলে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটিতে সাতজন আরোহী ছিল, তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটির অপর আরোহীর সন্ধানে বিশেষায়িত টিমগুলো কাজ করে চলছে।
এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছ দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম ২০টি এয়ারলাইন্স প্রায় ৫৩ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে বলে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এয়ারলাইন্স নির্বাহীরা।
এয়ারলাইন্সগুলোর মোট খরচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই যায় জেট ফুয়েলের পেছনে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এর দাম দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে বিমান ভাড়াও বাড়তে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সরু নৌপথ হরমুজ প্রণালির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। এর উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। এই প্রণালিটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
বিবিসি লিখেছে, প্রণালিটি এতই গভীর যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজগুলোও এখানে চলাচল করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো এবং তাদের ক্রেতারা এই পথ ব্যবহার করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে তেহরান কার্যত বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এ জলপথটি প্রবেশ ও প্রস্থান মুখে প্রায় ৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং সবচেয়ে সরু স্থানে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার।
বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। কেবল ইরান নয়দ ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও আমিরাত থেকেও তেল এই পথ দিয়ে যায়।
সাধারণত প্রতি মাসে প্রায় ৩,০০০ জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, কারণ ইরান ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ২১টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে, যা এ বছর বেড়েছে প্রায় ৭০% এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০% বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস করে দেবে’।
তার ভাষায়, “ইরান যদি এই মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে, কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে এবং সেগুলো ধ্বংস করে দেবে—সবচেয়ে বড়টি দিয়ে শুরু করে!”
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে ইরান।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরআইবি বলেছে, আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা হয়।
এতে ঘাঁটির হ্যাঙ্গার ও জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি ইরানের।
আল জাজিরা লিখেছে, তারা ইরানের এ দাবি যাচাই করে দেখতে পারেনি। কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্যও আসেনি।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ভবন ধসে পড়ার তথ্য দিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।
ইসরায়েল হায়োমের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনায় আঘাত হানে।
সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, হামলায় একটি ভবন ধসে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়।
উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে বলে টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে।
আরেক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ক্যান’ লিখেছে, ইরানের হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
এদিন ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর হামলায় পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্যও দিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে আটজনের আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।
শনিবার টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়, লেবানন থেকে এসব রকেট ছোড়া হয়। এসব রকেট এবং সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ গিয়ে পড়ে মা’আলত-তারশিহা শহরের একটি আবাসিক ভবনে।
‘শত্রুভাবাপন্ন’ সংবাদমাধ্যমের কাছে ‘সংবেদনশীল’ স্থানের খবর ও ছবি পাঠানোর অভিযোগে ২৫ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
দেশটির পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের পুলিশ প্রধানের বরাতে তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শত্রুদের সহযোগিতা না করতে নাগরিকদের বারবার সতর্ক করে আসছে ইরান।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাণহানি ছাড়াও এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৯৮৪ জন আহত হয়েছেন।
এখন পর্যন্ত সাতটি হাসপাতাল খালি করা হয়েছে। হামলায় ৩৬টি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এবার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নওরুজ (পারস্য নববর্ষ) উদযাপন করেছে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ।
শুক্রবার ইরান ও মধ্য এশিয়া জুড়ে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ এ উৎসব পালন করেন। বসন্তের আগমন ঘিরে ৩ হাজার বছর ধরে এটি পালিত হয়ে আসছে।
উৎসব ঘিরে স্থানীয় বাজার থেকে ফুল ও শুভেচ্ছা জানানোর নানা উপকরণ কেনেন বাসিন্দারা। ইরান ছাড়াও সিরিয়া, ইরাক ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে প্রতি বছরের মতো এবারও দিনটি উদযাপন করা হয়েছে।
আশির দশকের পর এবারই প্রথম যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নওরুজ উদযাপন করেন ইরানিরা।
১৯৮০ সালে ইরাক ইরান আক্রমণ করলে যুদ্ধ গড়ায় আট বছর। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ১৯৮৮ সালে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালে সেই সংঘাতের অবসান হয়। এরপর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নওরুজ উদযাপন করেননি ইরানিরা। এবার ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হামলার মধ্যে সেই উৎসব পালন করা হয়েছে।
উৎসব ঘিরে পারিবারিক মিলনমেলা হয়ে থাকে। বসন্তের আগমন ঘিরে জীবন নতুন করে সাজানোর প্রত্যাশা থাকে। কোটি মানুষের কাছে দিনটি ‘নতুন করে সূচনার’ বার্তা নিয়ে আসে।
তবে এবার যুদ্ধের মধ্যে ইরানে নওরুজ নিয়ে মানুষের বিশেষ উদ্দীপনা কাজ করেনি বলে লিখেছে সিএনএন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অন্যরকম এক নওরুজ কেটেছে তাদের।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (এইচআরএএনএ) বলছে, ইরানের ১৭টি প্রদেশে শুক্রবার অন্তত ৬৪০টি হামলা চালানো হয়েছে।
এসব ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন হতাহত হয়েছেন। হামলায় লক্ষ্যবস্তু সামরিক-বেসামরিক যাই হোক না কেন, কিছুই তোয়াক্কা করা হয়নি।
এইচআরএএনএ’র তথ্য বলছে, তিন সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৯৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১০ জন শিশু রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় ৮০ কোটি ডলারের (৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড) ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)এবং বিবিসি-র এক যৌথ বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর প্রথম সপ্তাহেই তেহরানের ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলায় বেশিরভাগ ক্ষয়ক্ষতি হয়।
যদিও মার্কিন সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও অস্পষ্ট, তবে অবকাঠামোগত এই ৮০ কোটি ডলারের হিসাবটি আগের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ানের চেয়ে অনেক বেশি। এতে করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চড়া মূল্য দেওয়ার চিত্রই সামনে আসে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা মার্ক কানসিয়ান বলেন, “অঞ্চলটিতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির খবর কমিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক বলে মনে হচ্ছে, তবে আরও তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষতির হিসাব জানা সম্ভব হবে না।”
এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সেন্ট্রাল কমান্ড কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর লেবাননে ইসরায়েলের চালানো হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ১১০ এরও বেশি শিশুর প্রাণ গেছে।
লেবাননজুড়ে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোতে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেইনকে গোয়েন্দা তথ্য না দিলে পুতিন প্রশাসনও ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে না বলে রাশিয়ার তরফে প্রস্তাব এসেছে।
মস্কোর এই প্রস্তাব ওয়াশিংটন এরই মধ্যে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে বলে পলিটিকোর খবরে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ সংবাদমাধ্যম লিখেছে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রত্যাখ্যান করলেও বিষয়টি নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোতে নতুন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
গেল সপ্তাহে ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, চলমান ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে তেহরানকে সহায়তা করছে।
এ খবর আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বৈঠকে বসেন রুশ ও মার্কিন কূটনীতিকরা।
পলিটিকো লিখেছে, ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি ‘কুইড প্রো কো’ (পাল্টা সুবিধা) প্রস্তাব হাজির করে রাশিয়া।
মস্কোর তরফে বলা হয়, ওয়াশিংটন যদি রাশিয়া সম্পর্কে ইউক্রেইনকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে তারাও আর তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য দেবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ফোন করে ঈদ ও নওরোজের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এনডিটিভি জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার নিন্দাও জানিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সমুদ্রপথগুলো উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এক্সে মোদী বলেন, “পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে ও বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত করে।”
ইরানের ভারতের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যাপারে ইরানের অব্যাহত সহযোগিতারও প্রশংসা করেন মোদী।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ বিষয়টি চিন্তাভাবনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সামরিক প্রচেষ্টাগুলো গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছি। আমরা লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।”
ফিলিস্তিনের গাজায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
শনিবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, “সেখানে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যা নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত। আমরা ‘বোর্ড অব পিস’-এর তৈরি করা কাঠামোগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছি।”
রয়টার্স লিখেছে, গাজা পুনর্গঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং প্রাথমিক কাজগুলো গুছিয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য ট্রাম্পের এই বোর্ড নিয়েছে, তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জাতিসংঘ প্রধান।
তবে গাজা পুনর্গঠনের বাইরে এই বোর্ডের আর কোনো ভূমিকা থাকা প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না। গুতেরেসের মতে বর্তমানের নাটকীয় সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য এটি কোনো কার্যকর পথ নয়।
তিনি বলেন, “আমাদের আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের মূল্যবোধের বিষয়ে স্পষ্ট থাকতে হবে। যেকোনো শান্তি উদ্যোগের জন্য এটি অপরিহার্য।”
সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গুতেরেস হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রস্তাব করেন, এই নৌপথটি রক্ষায় এবং হামলা বন্ধের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করতে জাতিসংঘ সাহায্য করতে পারে।
মহাসচিব আরও জানান, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো কথা হয়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
পারস্য নববর্ষ (নওরোজ) উপলক্ষে ইরানি নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
তিনি বলেছেন, “মস্কো তেহরানের বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবেই পাশে আছে।”
ক্রেমলিন বলছে, ইরানি জনগণকে যুদ্ধের কঠিন পরীক্ষা মর্যাদার সঙ্গে কাটিয়ে ওঠার শুভকামনা জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। বলেছেন, এই দুঃসময়ে মস্কো তেহরানের একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশী হিসেবে অবিচল রয়েছে।
রাশিয়া বলছে, ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে। বড় ধরনের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডকে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড হিসেবেও বর্ণনা করেছে রাশিয়া।
নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলা চালানো হয়েছে ইরান জানিয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির ‘অ্যাটোমিক এনার্জি অর্গানাইজেশনের’ (এইওআই) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে এ হামলার পর তেজস্ক্রিয় দূষণ সংক্রান্ত ‘প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন’ সম্পন্ন করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, তেজস্ক্রিয়তা সম্পর্কিত কোনো লিকেজ বা নিঃসরণ ঘটেনি। নাতাঞ্জের আশেপাশের এলাকায় বাসিন্দাদের জন্য বিপদের মত কিছু নেই।
এইওআই এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলছে, এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার নিয়ন্ত্রণ চুক্তি এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য নীতিমালার লঙ্ঘন।
এর আগে গত ১ মার্চ নাতাঞ্জে হামলা চালানো হয়। দুদিন পর এইওআই জানায়, হামলার ফলে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে নাতাঞ্জ, ফর্দো ও ইস্ফাহানে বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ওই হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করে দেওয়া হয়েছে।
ইরাকের বাগদাদে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে ‘ইরাকি সিকিউরিটি মিডিয়া সেলের’ প্রধান জেনারেল সাদ মান জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে সাদ মান বলেন, শনিবার সকালে বাগদাদের মনসুর এলাকায় ওই স্থাপনাটিতে হামলা চালানো হয়। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো কথা বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সাগরে থাকা ইরানি তেল বিক্রির ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন।
এই সুযোগে ভারতের শোধনাগারগুলো পুনরায় ইরানি তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। এশিয়ার অন্য দেশগুলোও একই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে, লিখেছে রয়টার্স।
ভারতের শোধনাগারের তিনটি সূত্র বলছে, তারা ইরানি তেল কিনতে আগ্রহী। এ বিষয়ে বর্তমানে সরকারের নির্দেশনা ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পেমেন্ট শর্তাবলির মত বিষয়গুলোর স্বচ্ছতার অপেক্ষায় রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারত রুশ তেল সংগ্রহ করেছিল। অন্যান্য বড় এশীয় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুত কম হওয়ায় দেশটি ইরানি তেল কেনার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্যমতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে চীনের নিকটবর্তী সমুদ্র অঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল জাহাজে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।
এশিয়া অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে।
২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। গত বছর চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। চীন ছাড়াও আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক।
তেলের মূল্যের লাগাম টেনে ধরতে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সাগরে ইরানি তেল বিক্রির ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রসাশন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে চলেছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় অবশেষে শুক্রবার এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হল মার্কিন প্রশাসন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেস্যান্ট বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার এই ছাড়ে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ব বাজারে আসবে আর তা জ্বালানি সরবরাহের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
শুক্রবার বাজারে লেনদেনের সময় শেষ হওয়ার পর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা ছাড়পত্রে বলা হয়, এই ছাড়ের অধীনে প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি তেল আমদানি করা যাবে।
রয়টার্স লিখেছে, ইরানে তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে তেলের মূল্য বেড়ে গেছে, এতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন সম্ভাবনায় হোয়াইট হাউজ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে, এ পদক্ষেপে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনেও মার্কিন কংগ্রেসে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সহকর্মী রিপাবলিকানরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য কেবল একটি ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
জাপানের কিয়োদো নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের বার্তা হলো, এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমাদের ওপর এ যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম, তখনই তারা আমাদের ওপর হামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি আগ্রাসনের নির্লজ্জ উদাহরণ। একটি অবৈধ, অন্যায্য ও উস্কানিবিহীন আগ্রাসন।”
আরাকচির সাক্ষাৎকারের বক্তব্য তার টেলিগ্রামে শেয়ার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা যা করছি তা পুরোপুরি আত্মরক্ষা। যেভাবে যতক্ষণ প্রয়োজন, আমরা নিজেদের রক্ষার পদক্ষেপ চালিয়ে যাব।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অবস্থান হলো, আমি আবারও বলছি, আমরা কোনো যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করছি না, কারণ আমরা গত বছরের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চাই না। যুদ্ধ অবশ্যই সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে শেষ হতে হবে। এই পরিস্থিতির যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সংবামাধ্যমগুলো লিখেছে, যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
একাধিক সূত্রের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট লিখেছে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই ঘাঁটিতে আঘাত করতে পারেনি। ঘাঁটিটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন লিখেছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে উৎক্ষেপণ করা হয়।
ইরান থেকে দিয়েগো গার্সিয়ার দূরত্ব প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার (২,৩৬১ মাইল)।
আল জাজিরা জানিয়েছে, উত্তর ইরানের দস্তক গ্রামে গোলাবর্ষণের ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে।
গিলান প্রদেশের গভর্নরের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, ওই গ্রামটি পড়েছে কিয়াশাহর এলাকায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের এখন আর ‘কোনো নৌবাহিনী নেই’। গত দুই দিনে তাদের ৫৮টি জাহাজ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নৌবাহিনী’ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা (ইরানে) সত্যিই খুব ভালো করছি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না।”
ইরানের তেহরানে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ওই কর্মকর্তার নাম মেহদি রোস্তামি শামাস্তান। তাকে ইরানের গোয়েন্দা ব্যবস্থার একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বলছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এক্সে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী বলছে, দুই দিন আগে তারা এ হামলা চালায়। ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, মোসাদ ও শিন বেত যৌথভাবে হামলা পরিচালনা করে।
ইসরায়েলের এ দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রাণালয় ৪৫ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে ভাড়াটে সৈন্য ও বিচ্ছিনতাবাদী হিসেবে কাজ করা এবং হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা ঈদের নামাজ পড়েছেন জলযানটিতেই।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের জলসীমায় থাকা জয়যাত্রা’র নাবিকরা শুক্রবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজের ডেকে নামাজ পড়তে পারেননি। জাহাজের ভেতরে ‘প্যাসেজে’ ঈদের নামাজ আদায় করেন তারা।
সংযু্ক্ত আরব আমিরাতে শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজ নিয়ে সেখানেই আছেন বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের ৩১ নাবিক।
গুরুত্বর্পূণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় থাকা জাহাজটি হামলার শঙ্কায় শারজাহ বন্দর থেকে ৮০ নটিক্যাল দূরে নোঙ্গর ফেলে আছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের সবাই একপ্রকার ‘আতঙ্কের’ মধ্যে দিন পার করছেন। তবু ঈদ উদযাপনে শামিল হয়েছেন তারা।
‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সবাই মিলে ঈদের নামাজ আদায় করেছি। এখানে আজ সকালে বৃষ্টি হয়েছে।
“তাই ডেকের উপরে নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়নি। আমরা জাহাজের ২৯ জন মুসলিম নাবিক ও ক্রু প্যাসেজে নামাজ পড়েছি। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। পরে সবাই মিলে ছবিও তুলেছি।”
তিনি বলেন, “আমরা ঈদের জামাতে এই পরিস্থিতিতে যাতে দ্রুত মুক্তি পাই, সেজন্য সবাই মিলে দোয়া করেছি।”
জয়যাত্রার নাবিকদের তোলা ছবিতে দেখা যায়, প্রায় সবাই ঈদের দিন পাঞ্জাবি পড়েছেন। জাহাজের ডেকে এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষে তারা ছবি তুলেছেন।
ঈদ উদযাপনের মধ্যে দেশে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে নাবিক ও ক্রুরা কথা বলেছেন বলে জানান ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম।
বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি পরবর্তী গন্তব্যের অপেক্ষায় ৯ দিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের জলসীমায় বসে আছে।
পরিবার-স্বজনদের উৎকণ্ঠার মধ্যে নাবিক জীবনের অভিজ্ঞতায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও তাদের টিকে থাকতে হচ্ছে। জাহাজে প্রতিদিনকার নিয়মিত কাজ প্রত্যেক নাবিককে করে যেতে হচ্ছে।
তাদের পরিস্থিতি জানিয়ে একদিন আগে বৃহস্পতিবার ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “আমাদের মাথার উপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত ড্রোন বা মিসাইল উড়ে যাচ্ছে। কখন কোথায় আঘাত হানবে, তার কোনো ঠিক নেই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মনোবল শক্ত রাখাই আমাদের প্রধান কাজ।
“আমাদের নাবিক জীবন সবসময়ই কষ্টের, দীর্ঘ সময় ধরে গভীর সমুদ্রে জাহাজে অবস্থান করতে হয়। এজন্য আমাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়া থাকে। সেজন্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও কীভাবে সময় পার করতে হবে তা আমাদের জানা রয়েছে।”
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে আসে এমভি বাংলার জয়যাত্রা। পরদিন ওই বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে জাহাজটি। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়।
টার্মিনালে ভেড়ার একদিন পরেই জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানরত জাহাজটির দুইশ মিটার দূরে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটির ৩১ নাবিকের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়।
পণ্য খালাস শেষে জাহাজটি পুনরায় কাতারে ফিরে যাবার কথা থাকলেও ‘জয়যাত্রা’কে ভাড়াকারী (চার্টার) প্রতিষ্ঠান পরবর্তী গন্তব্য মুম্বাই বন্দর ঠিক করে। পরবর্তী গন্তব্যের জন্য জাহাজটি হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয়।
কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ড তাদের যাত্রা আটকে দেয় নিরাপত্তার কথা বলে। জাহাজটি দিক ঘুরিয়ে শারজাহ বন্দর থেকে ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে বন্দরের জলসীমায় অবস্থান নেয়।
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার চুক্তি অনুসারে দেশে রোজার ঈদ পালন করার কথা ছিল না। হয়তো অন্য কোনো গন্তব্যে আমরা থাকতাম।
“কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙ্গরে আটকে থেকে জাহাজেই ঈদ পালন করতে হচ্ছে।”
ইরান যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ না করা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনা মোতায়েনে অস্বীকৃতি জানানোয় নেটোর সদস্য দেশগুলোর ওপর ক্ষেপেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
নেটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ অভিহিত করে তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া নেটো ‘কাগুজে বাঘ’ ছাড়া আর কিছুই নয়।”
ট্রুথ সোশাল ট্রাম্প আরও বলেন, “পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে দমাতে তারা এই লড়াইয়ে যোগ দিতে চায়নি।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাজ্যে ওষুধের সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ব্যবসায়ী সংগঠন ‘মেডিসিনস ইউকে’।
সংগঠনটি জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে জাহাজে মাল পাঠানোর খরচ অনেক বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়তে পারে ওষুধের বাজারে।
মেডিসিনস ইউকে-এর প্রধান নির্বাহী মার্ক স্যামুয়েলস রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অস্থিতিশীলতা চলতে থাকলে যুক্তরাজ্য ওষুধ সংকট থেকে মাত্র ‘এক পা দূরে’ থাকবে। বর্তমানে ওষুধের কিছু মজুত থাকলেও তা দিয়ে বেশিদিন চলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা (এনএইচএস) যেসব সস্তা ও সাধারণ ওষুধ (জেনেরিক ড্রাগ) ব্যবহার করে, সেগুলো এরই মধ্যে সরবরাহ সংকটে পড়তে শুরু করেছে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে।
স্যামুয়েলস জানান, যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চললে কোম্পানিগুলো এই বাড়তি খরচ আর বইতে পারবে না। তখন হয় ওষুধের দাম অনেক বেড়ে যাবে, না হয় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে, কিংবা দুটোই হতে পারে।
রয়টার্স সোমবার এক খবরে জানিয়েছে, ইরানে যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় পথে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ সরবরাহে এরই মধ্যে বিঘ্ন ঘটতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ক্যানসার বা ইনসুলিনের মতো ওষুধগুলোর সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর প্রায় ৮৫ শতাংশ ওষুধের জোগান দেয় মেডিসিনস ইউকে-র কোম্পানিগুলো। ফলে তাদের ওষুধ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্যে ইরান থেকে দেশে ফেরানো হচ্ছে প্রায় ২৮০ জন বাংলাদেশিকে।
ইরান সীমান্ত পেরিয়ে আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে তাদের ফেরার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
শুক্রবার এক বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “ইরান থেকে ২৮০ জনের মত বাংলাদেশি শুক্রবার রাত দেড়টায় দেশে ফিরে আসবেন।”
তাদের স্বাগত জানাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা করে বসে। এর পাল্টায় ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকে।
তাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধ। ফ্লাইট চলাচল যাওয়ায় বহু মানুষ আটকা পড়ে। বাংলাদেশেও অনেক প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্যে ফিরতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েন।
এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন থেকে কয়েকটি ফ্লাইটে আটক পড়া বাংলাদেশিদের একটি অংশ ফিরতে পারলেও ইরান থেকে একটি দলকে ফেরানো হচ্ছে এই প্রথম।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানে চালানো এক হামলায় ইরানের বাসিজ বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
তারা বলছে, ওই কর্মকর্তার নাম ইসমাইল আহমাদি, যিনি বাসিজ ইউনিটের গোয়েন্দা প্রধান।
ইসরায়েলের দাবি, আহমাদি বিভিন্ন অপারেশন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ‘কেন্দ্রীয় ভূমিকায়’ ছিলেন। এ ছাড়া ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, মধ্য তেহরানে বাসিজ কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছিল। তাতে আহমাদি নিহত হন। ওই হামলায় ইউনিট কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি ও সংগঠনের নেতৃত্বের আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলেও তারা দাবি করেছে।
ইসরায়েলের এ দাবির বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য আসেনি।
জেরুজালেমে আল আকসা মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি কয়েকদিনে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ পবিত্র আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে রেখেছে।
মসজিদের প্রধান ফটকগুলো বন্ধ থাকায় ফিলিস্তিনিরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। তারা মসজিদে ঢোকার চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ছুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করেছে সুইজারল্যান্ড।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার বলেছে, “ইরানের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত দেশগুলোতে যুদ্ধের সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমতি এই সংঘাত চলাকালে দেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া যাচ্ছে না।”
ইউরোপের চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলি অস্ত্র উৎপাদনকারী জায়ান্ট কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসের সংশ্লিষ্ট একটি কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একটি ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ গোষ্ঠী এ ঘটনার দায় স্বীকার করছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
আল জাজিরা লিখেছে, চেক কোম্পানি ও এলবিট সিস্টেমসের যৌথ পরিচালনায় ওই স্থাপনাটির বেশ কয়েকটি ভবন ভোরের দিকে হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
এলবিট সিস্টেমস ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্থল ও আকাশপথের অস্ত্রের প্রধান সরবরাহকারী। তাদের উৎপাদিত অস্ত্র গাজা ও ইরানে চলমান যুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
‘দ্য আর্থকোয়েক ফ্যাকশন’ নামে একটি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করে টেলিগ্রামে বলেছে, “এ স্থাপনাটি ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানির ইউরোপীয় কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র ছিল। এখন এটি দাউদাউ করে জ্বলছে।”
গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, “আমরা ঘোরতর বিপদের পরিস্থিতির মধ্যে আছি, যেখানে অশুভের দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সহযোগী আন্তর্জাতিক সরকারগুলোর কাছে ভিক্ষা চাওয়ার সময় আর নেই। তাদের হত্যার সরঞ্জাম নস্যাৎ করতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
চেক পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে বলেছে, এতে ‘সন্ত্রাসবাদী যোগসূত্র’ থাকতে পারে। ঘটনাটি তারা তদন্ত করছেন।
জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা কর্নওয়াল ইনসাইটের আভাস অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারের জন্য ওফজেম নির্ধারিত মূল্যসীমা বেড়ে ১ হাজার ৯৭৩ পাউন্ড হতে পারে।
জ্বালানির এই মূল্য এপ্রিল-জুনের বর্তমান মূল্যের তুলনায় প্রায় ৩৩২ পাউন্ড বেশি।
পাইকারি জ্বালানি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে।
ইরানি ড্রোনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে মধ্যপ্রাচ্যে দুই শতাধিক বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথা জানিয়েছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইরান ‘শাহেদ’ ধরনের যে ড্রোন উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ব্যবহার করছে, একই ধরনের ড্রোন তারা ২০২২ সালে রাশিয়ার কাছেও বিক্রি করেছিল। ইউক্রেইন এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে প্রায় ৯০ শতাংশ সফলতা অর্জন করেছে।
এখন কিইভ সেই অভিজ্ঞতা সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের কাছে সরবরাহ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইরানি ড্রোন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কারণ তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে উচ্চ-উচ্চতার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, কিন্তু নিম্ন-উচ্চতার হুমকি উপেক্ষা করেছে।
তাছাড়া খরচের দিক থেকেও বড় পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা প্রতিবার ব্যবহারে যেখানে প্রায় ১ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ হয়, যেখানে একটি ইউক্রেইনীয় প্রতিরোধী ড্রোনের খরচ প্রায় তিন হাজার ডলার, যা দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ডলারের একটি শাহেদ ড্রোন ধ্বংস করা যায়।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের হাইফা শোধনাগারের মূল ইলেক্ট্রিকাল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাইফা রিফাইনারি বলছে, হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতি হলেও বেশিরভাগ উৎপাদন ইউনিট সচল রয়েছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়িনি নিহত হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি ঠিক কখন নিহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি। মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া হামলার ঢেউয়ের মধ্যে তিনি পড়েন কি না তাও স্পষ্ট নয়। পূর্ব তেহরানের পাশাপাশি কারাজ, কেরমান, বন্দর লেঙ্গেহ বন্দর এবং কাশান শহরে হামলা হয়েছে।
নায়িনি কাশানের বাসিন্দা ছিলেন, তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি আইআরজিসিতে দ্বিতীয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে ছিলেন এবং ২০২৪ সালে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পান।
আগের রাতেই তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।”
ওই বক্তব্য প্রচারের পর নাকি তারও আগে তিনি নিহত হয়েছেন—তা এখনও জানা যায়নি।
লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ লিখেছে, ভোরে দক্ষিণ লেবাননের বাফলিয়েহতে ইসরায়েলি হামলায় দুজন নিহত হয়েছে।
যুদ্ধবিমান আশাপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় আক্রমণ চালিয়েছে।
এদিকে সংকটের পর সংকট দেখা দেওয়ায় লেবাননের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, এখন মুদ্রার দাম নেই বললেই চলে।
এ দুর্দশার মধ্যে তহবিল সংকটের কারণে জাতিসংঘ সেভাবে সহায়তার হাত বাড়াতে পারছে না।
পারস্য নববর্ষ উৎসব নওরোজের আগে সাধারণত ইরানজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। মানুষ নতুন পোশাক, নাস্তা ও মিষ্টি কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকে, কারণ এটিই ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।
নওরোজ অর্থ ‘নতুন দিন’, যা বসন্তের প্রথম দিনকে নির্দেশ করে। এটি ইরান এবং বিশ্বজুড়ে পার্সিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে ৩,০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উদযাপিত হয়ে আসছে।
বাজার খোলা থাকলেও অনেকেই রাজধানী তেহরানে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন, কারণ সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
মিনা বলেন, “ইচ্ছে করে সবকিছু যদি মুছে ফেলা যেত—যেন আমরা একটা দুঃস্বপ্ন থেকে জেগে উঠেছি।”
কাতারের রাস লাফানে ইরানের হামলার ফলে বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতির তথ্য তুলে ধরেছেন দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি।
তিনি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি সক্ষমতা ১৭% কমে যাবে, ফলে দেশটি বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার আয় হারাবে।
প্রাকৃতিক গ্যাসকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তৈরি হয় এলএনজি, যা ‘ট্রেন’ নামে পরিচিত বড় শিল্পপ্রক্রিয়াজাত ইউনিটে করা হয়। মন্ত্রী জানান, ইরানের হামলায় প্ল্যান্টটির ১৪টি ট্রেনের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কাতারের রাস লাফানে হামলা চালায়।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বাজারের সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিশ্লেষক সংস্থা হাইসাইটস-এর প্রধান বাণিজ্য কর্মকর্তা সিয়ারান রো বলেন, “পাঁচ বছর কোনো মেরামতের সময় নয়, এটি পুরোপুরি পুনর্নির্মাণের সমান।”
এশিয়ার দেশগুলো কাতারের এলএনজির ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল—বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও চীন। ইউরোপে ইতালি ও বেলজিয়াম বড় ক্রেতা, তবে ইউক্রেইন যুদ্ধের পর রাশিয়ার গ্যাস থেকে সরে আসায় পুরো ইউরোপ ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের গ্যাসের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
কাতার বৈশ্বিক প্রাকৃতিক গ্যাস বাজারের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়।
রো বলেন, “এই ভয় বাজারে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। এটি এলএনজি আমদানি নিয়ে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারণে পরিবর্তন আনবে।”
এলএনজি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎস, যা ঘর গরম রাখা, রান্না করা, জাহাজ ও কারখানা চালানো—সবকিছুর জন্য প্রয়োজন। এছাড়া খাদ্য উৎপাদনের জন্য সার তৈরিতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে বেশ কয়েকটি ড্রোন কুয়েত পেট্রলিয়াম কর্পোরেশনের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে আঘাত হেনেছে।
এতে শোধনাগারটির বেশ কয়েকটি ইউনিটে আগুন ধরে যায় ও বেশ কয়েকটি ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়। তবে এ হামলার ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে বলে খবর হয়নি।
হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে দমকল ও জরুরি বিভাগের কর্মীদের সরঞ্জামসহ মোতায়েন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর যুদ্ধের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে এসে ইরান তার ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক’ চালটি চেলেছে।
কোনো মিসাইল নয়, ড্রোনও নয়; কেবল একটি বাক্য, যা সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
কী বলেছেন তিনি? ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করতে দেবে, তবে একটি শর্তে। ডলারে নয়, তেলের দাম পরিশোধ করতে হবে চীনের মুদ্রা ইউয়ানে!
ইউটিউব চ্যানেল 'প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রির'এই সঞ্চালক অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং মনে করেন, ওই একটি বাক্য রণক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া গত দুই সপ্তাহের যে কোনো ঘটনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে।
কারণ ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার জোরে গত ৫০ বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে একক আধিপত্য তৈরি হয়েছে, এটা তার ওপর ‘সরাসরি আঘাত’।
অধ্যাপক জিয়াংয়ের ভাষায়, “অনেকের কাছে 'পেট্রোডলার' কেবল একটি অর্থনৈতিক তাত্ত্বিক শব্দ মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই আমেরিকার সামরিক শক্তির মূল ভিত্তি।”
ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে ‘যথাযথ প্রচেষ্টায়’ যোগ দিতে প্রস্তুত থাকার কথা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউরোপ ও জাপান মিলিয়ে ৬ দেশ।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান বৃহস্পতিবার এই যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার যথাযথ প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত।
এই যথাযথ প্রচেষ্টা কি হতে পারে সে বিষয়ে দেশগুলো সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি। তবে তারা তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ নাগরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের খরচ জোগাতে কংগ্রেসের কাছে ২০ হাজার কোটি (২০০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি বাজেট চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরপ্তর পেন্টাগন।
এই অর্থ ইরানের মোট জিডিপির প্রায় ৫০ শতাংশ।
এই বরাদ্দ অনুমোদন পেলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান গতি পাবে এবং অস্ত্রের উৎপাদনও বাড়বে।
ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসলেও এবার এই কর্মসূচি নিয়েই উল্টো সুরে কথা বলেছেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটি তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা নতুন করে গড়ে তুলছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।
সেনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির কাছে এক লিখিত সাক্ষ্যে গ্যাবার্ড দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপণাগুলোতে হামলা চালানোর পর থেকে দেশটি আর সেই কর্মসূচি চালুর চেষ্টা করেনি।
ইরানে ‘এফ-৩৫’ মডেলের একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে বলা হয়েছে।
যুদ্ধবিমানটি লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়েছিল বলে ধারণা তাদের।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমানটি ইরানের আকাশসীমা দিয়ে উড়ছিল। এর মধ্যে বাধা আসায় সেটি নিরাপদে অবতরণ করে।
তবে ইরানের রেভলুশনারি গার্ড কোর্পসের দাবি, তাদের হামলায় যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘এফ-৩৫’ মডেলের যুদ্ধবিমানও ব্যবহার করছে; একেকটির দাম ১০ কোটি ডলারের বেশি।
ইরানের হামলায় নিজেদের এলএনজি উৎপাদনের সক্ষমতা পাঁচ বছরের জন্য প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যাওয়ার কথা বলেছে কাতার।
কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাদ আল-কাবি বলেছেন, তাদের এলএনজি অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে, কাতার কিংবা এই অঞ্চলে ভ্রাতৃপ্রতীম একটা মুসলিম দেশ থেকে এ ধরনের হামলা হবে, তাও আবার রোজার মধ্যে।”
আল-কাবি বলেন, এই হামলার কারণে কাতারএনার্জি হয়তো ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে করা রপ্তানি চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহে ব্যর্থ হবে।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতে ২৬০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে বলেও ধারণা দেন তিনি।
বুধবার বিকালে কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকায় হামলা চালায় ইরান।
রাস লাফানে বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র অবস্থিত।
কাতারের এ ধরনের স্থাপনাকে হামলার নিশানা বানানোর হুমকি আগেই দিয়েছিল ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে কাজ করার অভিযোগে ৯৭ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আল জাজিরা লিখেছে, এর মধ্যে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা ‘গোয়েন্দা হিসেবে’ কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ছেপেছে। সেখানে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশে ‘অস্থিরতা তৈরি ও হত্যাকাণ্ড ঘটানোর’ পরিকল্পনা করছিল।
এছাড়া ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে ‘পাঁচটি সশস্ত্র ভাড়াটে চক্রকে’ নির্মূলের দাবিও করেছে মন্ত্রণালয়।
এর আগে উত্তর আলবোর্জ প্রদেশে ‘শত্রু নেটওয়ার্কগুলোতে’ যুদ্ধের ফুটেজ পাঠানোর অভিযোগে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে খবর দিয়েছিল আল জাজিরা।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ পরেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর মত সক্ষমতা ইরানের এখনো আছে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ এয়ারফোর্সের চেয়ারম্যান জেনারেল ডান কেইন।
পেন্টাগনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ব্রিফিংয়ের সময় এক প্রশ্নে ডান কেইন বলেন, “ইরান বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে এই লড়াইয়ে নেমেছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র যতটা সম্ভব ‘আক্রমণাত্মক ও কঠোর’ অবস্থান বজায় রাখছে।
“যুক্তরাষ্ট্র নিরবচ্ছিন্নভাবে সেই অস্ত্রগুলো খুঁজে বের করা ও ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরানের এখনো ‘কিছুটা সক্ষমতা’ অবশিষ্ট রয়েছে।”
কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে হামলার পর দেশটির আরেকটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা হয়েছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেইউএনএ জানিয়েছে, কুয়েত সিটির দক্ষিণে ওই শোধনাগারের একটি অংশে ড্রোনের আঘাতের পর আগুন ধরে যায়।
তার আগে মিনা আল-আহমাদিতে হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়। হামলায় সেখানে অল্প আগুন লেগে যায়।
ইরানের দক্ষিণ পার্স ও কাতারের রাস লাফান কমপ্লেক্সে হামলার পর গ্যাসের দাম ব্যাপক বেড়ে গেছে।
বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার লেনদেনের প্রথম ভাগে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম ২৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়, যদিও পরে তা সামান্য কমে।
ইউরোপে বর্তমানে গ্যাসের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি পর্যায়ে রয়েছে।
ইরানের দক্ষিণ পার্স জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জবাব ‘এখনো শেষ হয়নি’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
দক্ষিণ পার্সে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ভুল করেছে মন্তব্য করে আইআরজিসির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আবারো হামলা হলে, জবাব ‘আরো ভয়াবহ’ হবে।
‘আইএসএনএ’ সংবাদ সংস্থা ইরানি এ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা শত্রুদের সতর্ক করছি, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আপনারা একটি বড় ভুল করেছেন। এর পুনরাবৃত্তি ঘটলে আপনাদের ও আপনাদের মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামোগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত হামলা থামবে না।
ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার উপাসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের পাল্টা আঘাতে মধ্যে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম ১৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্ম ১৭১ দশমিক ৩৪ পেন্সে পৌঁছেছে।
২০২৩ সালের জানুয়ারির পর থেকে যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম কখনো এই পর্যায়ে পৌঁছায়নি, লিখেছে আল জাজিরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে দেশটির কঠোর অবস্থানের কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে জ্বালানি বাজার। এ অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম ৭১ দশমিক ১৩ পেন্স থেকে সবশেষ ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেল।
বুধবার বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র দক্ষিণ পার্সের একটি অবকাঠামোতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর পাল্টা ঘোষণা দিয়ে উপাসগরীয় দেশগুলোতে জ্বালানি স্থাপনা আক্রমণ চালাচ্ছে ইরান। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন ধরে গেছে।
যুক্তরাজ্য জ্বালানি বিশেষ করে গ্যাস আমদানিতে মধ্যপ্রাচ্য ও কাতারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
রাস লাফান শিল্পনগরী, কাতার: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের প্রধান গ্যাসকেন্দ্র রস লাফান শিল্পনগরীতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ হয়েছে।
মিনা আল-আহমাদি রিফাইনারি, কুয়েত: একটি ড্রোন আঘাতে আগুন লেগেছে, তবে কোনও আহত নেই।
মিনা আবদুল্লাহ রিফাইনারি, কুয়েত: আরেক ড্রোন হামলায় আগুন লেগেছে।
হাবশান গ্যাস কেন্দ্র ও বাব তেলক্ষেত্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত: ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষতি হয়েছে, তবে কোনো আহত নেই।
স্যামরেফ রিফাইনারি, সৌদি আরব: সৌদি আরামকোর রিফাইনারিতে একটি ড্রোন পড়েছে; ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
কুয়েতের দুটি তেল শোধনাগার ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বলেছে, দেশটির দক্ষিণে মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারের একটি ইউনিটে ড্রোন আঘাত করেছে। তাতে করে সেখানে আগুন ধরে গেছে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থাপনার সুরক্ষা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারেও আগুন লেগেছিল; তবে এতে কোনও আহত হয়নি।
মেহের নিউজ লিখেছে, ইরানি শীর্ষ নেতাদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে নীরব থাকায় সমালোচনা করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়েছেন তেহরানের দূত।
চিঠিতে আমির সাইয়্যেদ ইরাভানি লিখেছেন, পরিষদের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে কর্মকর্তাদের নিশানার প্রশ্নে ইসরায়েল আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তিনি বলেছেন, যদি এটি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তাহলে হত্যাকাণ্ড সাধারণ ঘটনা হয়ে যেতে পারে এবং অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৭৭ জন। তাতে করে ইসরায়েলে যুদ্ধ চলাকালে মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯২৪ জনে।
ইসরায়েলে মোট ১৫ জনের প্রাণ ঝরেছে, আর দেশটির দুই সেনার প্রাণ ঝরেছে লেবাননে।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের প্রাণ হারানোদের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে আল জাজিরা।
ইরান: অন্তত ১৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত
লেবানন: ইসরায়েলি আক্রমণে ৯৬৮ জনের প্রাণ ঝরেছে, যাদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে
ইরাক: ৬০ জন নিহত, তারা মূলত ইরান সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের সদস্য
ইসরায়েল: ১৭ জন নিহত, যাদের মধ্যে ১৫ জন সাধারণ মানুষ এবং ২ জন সৈনিক
যুক্তরাষ্ট্র: ১৩ জন নিহত; ৭ জন ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন চলাকালে, ৬ জন ইরাকে বিমান দুর্ঘটনায়
সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুই সৈনিকসহ ৮ জন নিহত
ফিলিস্তিন: পশ্চিম তীরে ৩ নারী নিহত
ফ্রান্স: উত্তর ইরাকে ড্রোন হামলায় এক সেনা নিহত
এশিয়ার বাজারে প্রাথমিক লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১২ ডলার হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দামও ৩ শতাংশ বেড়ে ৯৯.২৭ ডলার হয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর এ দর বেড়েছে।
এই হামলার জবাবে ইরান কাতারের একটি বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
যদিও তেলের দাম যুদ্ধের আগের তুলনায় এখনও অনেক বেশি, তবে সংঘাতের শুরুর দিকে ব্যারেল প্রতি দর প্রায় ১২০ ডলারে উঠেছিল। সেই তুলনায় এখন দাম কিছুটা কম।
এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও পতন দেখা গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক কমেছে ৩ শতাংশ।
জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক কমেছে ২.৮ শতাংশ।
অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ১.৬ শতাংশ কমেছে।
ইরান সরকারবিরোধী তিনজন বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।
ইরানের বিচারিক সংবাদ সংস্থা মিজান নিউজের বরাতে রয়টার্স লিখেছে, গেল জানুয়ারির দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
বিচার বিভাগ জানায়, তারা হত্যা এবং ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করার অভিযোগে দোষী। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করার অভিযোগও রয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যানুযায়ী, এই বিক্ষোভে ৬,৪৮৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। নিহতদের এ সংখ্যার মধ্যে ২৩৬ জন শিশু, ৭৬ জন সাধারণ মানুষ এবং ২০৭ জন সামরিক ও সরকারি বাহিনীর সদস্য অন্তর্ভুক্ত নয়।
ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আল জাজিরা লিখেছে, উত্তর ইরাকের নিনেভেহ সমভূমির পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) সদর দপ্তরে বিমান হামলা হয়েছে। এ হামলায় একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছে।
এর আগে কেন্দ্রীয় সালাহ আল-দিন প্রদেশে পিএমএফের ঘাঁটিতে দুটি আলাদা হামলার খবর পাওয়া যায়। পিএমফি জানায়, আল-সিনিয়া বিমানবন্দরের কাছে এক হামলায় এক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং বেইজি জেলায় ষষ্ঠ ব্রিগেডের সদর দপ্তরে হামলায় তিনজন আহত হয়েছে।
এই হামলাগুলো এমন সময় ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, যা ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হচ্ছে।
পিএমএফ হলো ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অংশ, যেখানে ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে।
দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস ভান্ডারের ইরানি অংশ। এর আরেক অংশ কাতারের মালিকানাধীন, যার নাম নর্থ ডোম।
পুরো গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ১,৮০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট ব্যবহারযোগ্য গ্যাস রয়েছে, যা পুরো বিশ্বের প্রায় ১৩ বছরের চাহিদা মেটাতে পারে।
ইরান এই ক্ষেত্র থেকে যে গ্যাস উৎপাদন করে, তার বেশিরভাগই নিজেদের দেশের ভেতরে ব্যবহার করে।
ইসরায়েল এই গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর উপসাগরীয় দেশগুলো—যেমন কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই হামলার ব্যাপারে কিছুই জানতেন না এবং ইসরায়েল আর সেখানে হামলা করবে না।
ইসরায়েলি আক্রমণে দুই দিনে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের চিত্র তুলে ধরেছে দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
দেইর জাহরানি: দুই শিশুসহ নিহত ৩ এবং ১৫ জন আহত
জেবচিত: ৭ জন নিহত, যার মধ্যে ৪ জন সিরিয়ার এবং ২ জন আহত
বালবেক: ৪ জন নিহত এবং ৭ জন আহত
সাহমার: ৯ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত
জমেইজমেহ: ৩ জন নিহত এবং ৪ জন আহত
বৈরুত: ১১ জন নিহত এবং ৪৫ জন আহত, যার মধ্যে ১৪ জন শিশু
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানি হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ হামলা ছিল আন্তর্জাতিক আইনের মূলনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের ‘নিষ্ঠুর আগ্রাসান’ সব রেড লাইনকে অতিক্রম করেছে মন্তব্য করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাও বিবৃতিতে গুরুত্বারোপ করা হয়।
এর আগে কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ট্রাম্প বুধবার রাতে ট্রুথ সোশালে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন।
ওই হামলার জবাবে ইরান কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকায় আক্রমণ চালায়, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র রয়েছে।
কড়া ভাষার পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের এই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘কিছুই জানত না’ এবং ইরান যদি আবার কাতারে হামলা করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তিনি লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ থেকেই ইসরায়েল ‘সহিংস’ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই জানত না এবং কাতার কোনোভাবেই এতে জড়িত ছিল না, এমনকি তারা জানতও না যে এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে।”
ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান এসবের কিছু জানত না, তাই তারা কাতারের রাস লাফানে প্রতিশোধমূলক হামলা করেছে, যা ছিল ‘অযৌক্তিক ও অন্যায়’।
তিনি বড় অক্ষরে লিখেছেন, ইসরায়েল আর ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করবে না—যদি না ইরান আবার কোনো নিরীহ দেশের ওপর হামলা করে, যেমন এই ক্ষেত্রে কাতার।
যদি ইরান আবার কাতারে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি দিয়ে দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র ‘পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে’, যা ইরান আগে কখনো দেখেনি বা অনুভব করেনি—এমন হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
শেষে তিনি বলেন, তিনি এত বড় ধরনের সহিংসতা ও ধ্বংস অনুমোদন করতে চান না, কারণ এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকবে ইরানের ওপর। তবে কাতারের এলএনজি স্থাপনায় আবার হামলা হলে তিনি তা করতে দ্বিধা করবেন না।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের খরচা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ হোয়াইট হাউসকে অনুরোধ করেছে, যাতে তারা কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ অনুমোদনের প্রস্তাব দেয়।
কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, এই যুদ্ধে ইতোমধ্যেই ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়ে গেছে।
কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
বুধবার বিকালের এই হামলায় সেখানে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হওয়ার কথা জানায় কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত ৯৬৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২ হাজার ৪৩২ জন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হালনাগাদ এ তথ্য দিয়েছে।
আগে থেকে পরামর্শ করলে জার্মানি ইরানে হামলা না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরামর্শ দিত বলে মন্তব্য করেছেন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস।
বার্লিনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তিনি বলেন, “গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে হামলা শুরু করেছে, তার পেছনের কৌশল নিয়ে বার্লিনের এখনও ‘অনেক প্রশ্ন’ রয়েছে। আজও পর্যন্ত এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা নেই যে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান কীভাবে সফল হতে পারে।”
মেরৎস বলেন, “ওয়াশিংটন আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। ইউরোপীয় সহায়তার প্রয়োজনও বোধ করেনি। ইরানে হামলার পদক্ষেপ যেভাবে নেওয়া হয়েছে, আমরা সেই পথে না হাঁটার পরামর্শ দিতাম।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সহযোগিতায় নেটো মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানালেও জার্মান চ্যান্সেলর যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি আবারও প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ইরানের দক্ষিণ পারসে ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা জারি আইআরজিসি বলছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ এলাকার জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে ‘জরুরি সতর্কবার্তায়’ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের বেশ কিছু স্থানের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সামরেফ শোধনাগার, আল-জুবাইল পেট্রোকেমিকেল কমপ্লেক্স, মাসাইদ হোল্ডিং কোম্পানি, আল-হোসন গ্যাসক্ষেত্র ও রাস লাফান শোধনাগারের কথা বলা হয়েছে।
আইআরজিসি বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের গ্যাস স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার পর উপসাগরী জ্বালানি স্থাপনাগুলো এখন ‘সরাসরি ও বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে উঠেছে। সকল নাগরিক ও শ্রমিকদের অবিলম্বে ওই সব এলাকা ছাড়ার কথা বলছে আইআরজিসি।
দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার পর ইরান থেকে ইরাকের গ্যাস আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় একথা জানিয়েছে।
ইরাক তার প্রয়োজনীয় গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ইরান থেকে আমদানি করে থাকে।
বুধবার ভোরের দিকে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র দক্ষিণ পারসে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে গ্যাসক্ষেত্রটির একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স আগুন ধরার খবর দেয় ফার্স নিউজ।
দক্ষিণ পারস হলো বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র, যেখানে কাতার ও ইরান উভয় দেশই তাদের নিজস্ব গ্যাস স্থাপনা পরিচালনা করে থাকে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহী মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড যুদ্ধ বাদ দিয়ে ফিরে যাচ্ছে গ্রিসে। আপাতত সেখানে নিয়ে সেটিকে মেরামত করা হবে।
পারমাণবিক শক্তিচালিত এ রণতরীতে কীভাবে আগুন লাগল সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস জানিয়েছে, টানা ১১ মাস ধরে সাগরে চষে বেড়ানো যুদ্ধজাহাজটির নাবিকরা নিজেরাই ‘নাশকতায়’ জড়িয়েছেন কিনা, সেই প্রশ্ন সামনে আসছে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজটির ‘লন্ড্রি’ অংশে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এতে অন্তত দুই নাবিক আহত হয়। তাদের চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনাটি ‘যুদ্ধ-সম্পর্কিত নয়’। আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণও তারা বলছেন না। তদন্তকারীরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
জেরাল্ড ফোর্ডের নাবিকদের ‘মনোবল নিয়ে প্রশ্ন’
ইরান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে লোহিত সাগরে আসার আগে রণতরীটি ক্যারিবীয় সাগরে ছিল। সেখানে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে এটি অংশ নিয়েছে।
মাসের পর মাস ধরে সাগরে মোতায়েন থাকায় জাহাজটির নাবিকদের মনোবল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফের যুদ্ধের জড়ানোর জন্য রণতরীটি কতোটা প্রস্তুত, প্রশ্ন আছে তা নিয়েও।
রয়টার্স জানায়, জাহাজের প্রধান লন্ড্রি এলাকায় লাগা আগুন স্লিপিং বার্থ এলাকায়ও ছড়িয়েছিল। এতে প্রায় ১০০টি স্লিপিং বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধোঁয়ায় শ্বাস রুদ্ধ হয়ে প্রায় ২০০ জনের মতো নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে এক সেনাকে হেলিকপ্টারে করে নিকটবর্তী একটি দেশের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডে যুদ্ধজাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রথম খবর দিয়েছিল নিউ ইয়র্ক টাইমস। তখন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য জানানো অনুরোধে পেন্টাগন সাড়া দেয়নি।
ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিব ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
এক্সে এক পোস্টে পেজেশকিয়ান শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, “প্রিয় সহকর্মী ইসমাইল খতিব, আলি লারিজানি ও আজিজ নাসিরজাদেহের পাশাপাশি তাদের পরিবারের কিছু সদস্য এবং সঙ্গীদের কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড আমাদের গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছ।”
এ নিয়ে দুই দিনে তিন শীর্ষ নেতাকে হারাল ইরান। এর আগে দেশটির নিরাপত্তা প্রধান আল লারিজানি ও বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানিকে বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।
এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন, মঙ্গলবার রাতে হামলা চালিয়ে তারা ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে হত্যা করেছেন। এ দাবির বিষয়ে তেহরানের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসছিল না। অবশেষে ইসমাইল খতিবের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
একের পর এক শীর্ষ নেতাদের হারিয়ে ইরান চাপের মুখে পড়ছে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠলেও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, লারিজানির হত্যাকাণ্ড ইরানের নেতৃত্বের জন্য মারাত্মক কেনো ফাটল তৈরি করবে না।
বুধবার ভোরে তেহরানের পক্ষ থেকে লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো উপলব্ধি করতে পারেনি যে, ইরান সরকার কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।
সূত্র: বিবিসি/টাইমস অব ইসরায়েল/আলজাজিরা।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি হত্যার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, “সার্বভৌম-স্বাধীন ইরানের নেতৃত্বের ক্ষতি করতে নেওয়া পদক্ষেপ ও বিশেষ করে তাদের হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এই ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই।” মঙ্গলবার ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানিকে হত্যার পাশাপাশি ইসরায়েল বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর কমান্ডার সোলাইমানিকেও হত্যা করেছে ইসরায়েল।
বুধবার ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকেও হত্যার দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি ও বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানির জানাজায় ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে।
ইসরায়েলের হামলায় তারা দুজনেই মঙ্গলবার নিহত হয়েছেন।
বুধবার এ দুজনসহ নিহত ৮৪ নাবিকেরও জানাযা হয়েছে। গত ৪ মার্চ মার্কিন টর্পেডোর হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ ডুবে গিয়ে নাবিকরা প্রাণ হারান।
ইরানের দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে অবস্থিত একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স ইসরায়েলের বিমান হামলার শিকার হয়েছে বলে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে।
হামলার পর স্থাপনাটিতে আগুন ধরার খবর দিয়েছে ফার্স নিউজ। ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেছেন।
দক্ষিণ পারস হলো বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র, যেখানে কাতার ও ইরান উভয় দেশই তাদের নিজস্ব স্থাপনা পরিচালনা করে থাকে। বুধবার ভোরের দিকে সেখানে হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে তেহরান এ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
হিজবুল্লাহর অধিভুক্ত আল মানার টেলিভিশন জানিয়েছে, বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বিষয়ক পরিচালক স্ত্রীসহ নিহত হয়েছে।
এক বিবৃতিতে চ্যানলটি বলেছে, “চ্যানেলের রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ শারি ও তার স্ত্রী বৈরুতের জুকাক আল ব্লাত এলাকায় জায়নবাদীদের চালানো হামলায় নিহত হয়েছে।”
এ হামলায় শারির সন্তান ও নাতি আহত হয়েছে আর তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে আল মানার জানিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়টি জানায়, বৈরুতের কেন্দ্রস্থলের বাস্তা ও জুকাক আল ব্লাত এলাকায় চালানো এসব হামলায় আরও ৪১ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননে নিযুক্ত ফ্রান্সের বিশেষ দূত জঁ-ইভ ল্য দ্রিয়ঁ বলেছেন, ইসরায়েলের বোমা হামলার মধ্যে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করবে এমন আশা করা অযৌক্তিক হবে। শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ফ্রান্স ইনফো রেডিওকে তিনি বলেন, “ইসরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে লেবানন দখল করে আছে আর হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই তারা বোমাবর্ষণের মধ্যে লেবানন সরকারকে তিন দিনে এই কাজ করতে শেষ করতে বলতে পারে না।”
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত বেসামরিকদের মধ্যে একজন বাদে বাকি সবাই পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের নাগরিক।
দেশটির কর্তৃপক্ষ নিহত ছয় বেসামরিকের নাম প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, শুধু একজন উপমহাদেশের বাইরের, তিনি ফিলিস্তিনের নাগরিক।
নিহত ছয়জনের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনজন পাকিস্তানের, একজন বাংলাদেশের, একজন নেপালের ও অপরজন ফিলিস্তিনি। এদের মধ্যে নিহত বাংলাদেশির নাম আহমেদ আলী।
নিহত আহমদ আলী মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর জানা গেছে। তাদের মধ্যে একজন দুবাই, একজন বাহারাইন ও তিনজন সৌদি আরবে মারা গেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গাল্ফ নিউজ জানিয়েছে, দেশটির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার ইরানের ছোড়া ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৫টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
আর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা দেশটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া ৩১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬৭২টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
এসব হামলায় যারা আহত হয়েছেন তারা আরব আমিরাত, বাংলাদেশ, মিশর, ইথিয়োপিয়া, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন ও আফগানিস্তানের নাগরিক।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিস্থিতির মধ্যে ১০ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সশস্ত্র বাহিনীর দুই কর্মকর্তা নিহত হয়। হেলিকপ্টারটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
বুধবার দেশটির বিচার বিভাগের দাপ্তরিক সংবাদ সংস্থা মিজানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তিকে কুরোশ কেইভানি হিসেবে শনাক্ত করেছে সংবাদ সংস্থাটি।
মিজানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ওই ব্যক্তি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ইরানের সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি ও তথ্য সরবরাহ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।”
ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক দশকের দীর্ঘ ‘ছায়া যুদ্ধে’ লিপ্ত ইরান এর আগেও মোসাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং দেশটির অভ্যন্তরে মোসাদের কার্যক্রমে সহায়তা করার অভিযোগে অভিযুক্ত অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।
এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান সন্দেহভাজন গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে।
ইরানের শত্রুদের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করার অভিযোগে দেশটির কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির পুলিশ প্রধান আহমদরেজা রাদান।
রোববার তিনি বলেন, “বিমান হামলায় যেসব লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এরা সেগুলোর তথ্য পাচার করেছে আর অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ভিডিও করে সেগুলো পাঠিয়ে দিয়েছে।”
এর আগে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, এসব অভিযোগে রোববার ইরানের বেশ কয়েকটি অঞ্চল থেকে বহুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের বিষয়ে অবগত এক সূত্র চলতি সপ্তাহে রয়টার্সকে জানায়, ইরানের ভেতরে থাকা গুপ্তচরদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েল ইরানি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে দেশটিতে আক্রমণের এক নতুন পর্ব শুরু করেছে।
আপাতত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাদ দিয়ে মেরামতের জন্য বন্দরে ফিরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাহাজের লন্ড্রি অংশে আগুন ধরে অন্তত দুজন নাবিক আহত হওয়ার পর জেরাল্ড ফোর্ডকে লোহিত সাগর থেকে মেরামতের জন্য গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে লোহিত সাগরে যাওয়ার আগে গ্রিসের এই বন্দরেই যাত্রাবিরতি করেছিল এই মার্কিন রণতরী।
ব্লুমবার্গ লিখেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর মুখপাত্র রণতরীর অবস্থা বা এর সঙ্গে থাকা গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলোর গতিবিধি সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ফোর্ডের স্ট্রাইক গ্রুপ লোহিত সাগরে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
পারমাণবিক শক্তিচালিত ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের ওজন এক লাখ টন, ক্রু সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি। জাহাজে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে নাবিকদের ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে বলে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএএ) জানিয়েছে তেহরান।
আইএইএএর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরান বুসেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ওই হামলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আইএইএ পরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যায়।
ইসরায়েলের বাণিজ্য নগরী তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানায়, নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েল বলেছে, ইরান বারবার ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করছে, সেগুলো মাঝ আকাশে ছোট ছোট বিস্ফোরকে বিভক্ত হয়ে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যা প্রতিরোধ করা কঠিন।
রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ঘনবসতিপূর্ণ তেল আবিবে এ হামলায় দুইজন নিহত হয়। এতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানি হামলায় ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা ম্যাগেন দাভিদ আদোম জানিয়েছে, তেল আবিবের শহরতলী রামাত গানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে দুইজন গুরুতর আহত হওয়ার পর মারা যান। নিহতদের সত্তরোর্ধ এক দম্পতি বলে শনাক্ত করেছে হিব্রু গণমাধ্যম। তারা বোম্ব শেল্টারে যাওয়ার সময় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তেল আবিবের একটি এলাকাকে লক্ষ্যস্থল করে খোররামশাহর-৪ ও কদর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে এ হামলা চালানো হয়।
ইরানের আধা-স্বায়ত্তাশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েলের যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করা হয়েছে সেগুলো হল, হাদেরা শহরে কাছে ওরত রাবিন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, আশকেলনের রুটেনবার্গ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, উত্তরাঞ্চলের অধিকৃত ইয়কনেয়ামের নিকটবর্তী হাগিত কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট, আশদোদ শহরের এশকোল হাইব্রিড পাওয়ার প্ল্যান্ট ও কিরিয়াত মালাখি শহরের নিকটবর্তী হারুভিত (জাফিত) পাওয়ার প্ল্যান্ট।
এই পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইসরায়েলের ৫০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরানের শোহাদা স্কয়ার এলাকার বিদ্যুৎ স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর পেরিয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহ। কেবল তেল ও গ্যাসেই নয়, এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বের সরবরাহ শৃঙ্খলে।
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে। তাতে অ্যালুমিনিয়াম, হিলিয়াম, সালফার ও ইউরিয়ার মতো পণ্য রপ্তানি থমকে গেছে। এসব পণ্য মহাকাশ গবেষণা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, সার উৎপাদন এবং মেডিকেল ইমেজিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যালুমিনিয়ামের দাম বহু বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাতারের এলএনজি স্থাপনায় হামলা হওয়ার পর হিলিয়াম উৎপাদন বন্ধ রেখেছে দেশটি। সার সংকট বিশ্ব খাদ্য সরবরাহকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, সরবরাহ ব্যাহত হতে থাকলে শিল্পখাতগুলোতে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে সশস্ত্র বাহিনী।
উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও মঙ্গলবার রাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কুয়েত ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তারা সাতটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
আল জাজিরা লিখেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও বাহরাইনও সাম্প্রতিক ঘণ্টায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের খবর দিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে “ধারাবাহিক হামলা” শুরু করেছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে টাইর শহর ও সেখানকার ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোর বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হচ্ছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী সাইদা জেলার আল-আকবিয়া শহরে হামলা চালিয়েছে। তার আগে কাছের কুন্নারিত শহরেও হামলা চালানো হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি অভিযানে আরও ১১ জন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন।
غاره عنيفة استهدفت العاقبيه pic.twitter.com/0rsQxagNVm
চ্যানেল টুয়েলভ এর বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সতর্কতা জারির পর মধ্য ইসরায়েলের গুশ দান এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সেখানে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তবে একটি ওয়ারহেড থেকে ছড়িয়ে পড়া কিছু বোমা আঘাত হেনেছে।
হোলন শহরে কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার কিছুতে আগুন লেগেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জোড়া হামলায় ৬ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৪ জন।
বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েল।
আল জাজিরা জানিয়েছে, কিরকুক শহরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইমাম আলি ঘাঁটিতে হামলার পর আকাশে আগুনের শিখা দেখা গেছে।
ঘাঁটিটি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর সেনাদের অবস্থানস্থল। আরবিতে ‘হাশদ আল-শাবি’ নামে পরিচিত পিএমএফ মূলত শিয়া আধাসামরিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর একটি মোর্চা; এর মধ্যে ইরানের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গোষ্ঠীও রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর অংশ।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
মঙ্গলবার বাগদাদে পিএমএফ ব্যবহৃত একটি ভবনে হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। এর আগে সোমবার ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশে পিএমএফের একটি চেকপয়েন্টে হামলায় ওই বাহিনীর আরও আট সদস্য নিহত হয়।
بە ڤیدیۆ؛ کەتائیبی ئیمام عەلی لە رۆژئاوای کەرکووک بۆردوومان دەکرێت و ئەوانیش تەقە لە هێلیکۆپتەرەکە دەکەن pic.twitter.com/J5b466SRcP
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নেটো মিত্রদেশগুলোর বেশিরভাগই জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইরানে সামরিক অভিযানে জড়িত হতে চায় না।
নেটো দেশগুলোর এই পদক্ষেপকে ‘খুবই বোকার মতো ভুল’ সিদ্ধান্ত বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে ট্রাম্প এমন কথা বলেন।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পড়েছে। ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধে পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোর দেশগুলো সমর্থন দিয়েছে। যদিও তারা এই যুদ্ধে জড়াতে চায়নি।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি নেটো খুবই বোকার মতো ভুল করছে। প্রত্যেকেই আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছে। কিন্তু তারা আমাদেরকে সাহায্য করতে চায় না। আমরা মনে করি এটি খুবই বিস্ময়কর।”
অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি সচল করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা বিধানের জন্য মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ ও নৌসেনা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও ইউরোপের প্রায় সব দেশই সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্প মঙ্গলবারেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে নেটোর সমালোচনা করেন এবং ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেন।
নেটোকে নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ট্রুথ সোশালে তিনি লেখেন, “যেহেতু আমরা সামরিকভাবে অনেক বড় সাফল্য পেয়েছি, তাই আমাদের আর নেটো দেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন নেই। আমরা তা প্রত্যাশাও করি না। আমাদের কখনও তাদের সহায়তা প্রয়োজন ছিলও না।”
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান জুন পর্যন্ত চলতে থাকলে তা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে চরম খাদ্যসংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)।
ইরানে যুদ্ধ শুরু হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। এর জেরে বিশ্বের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে মানবিক ত্রাণ সরবরাহের প্রধান পথগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এই যুদ্ধের কারণে খাদ্য, জ্বালানি ও জাহাজ ভাড়া আকাশচুম্বী হওয়ায় বিশ্বব্যাপী বাড়তি ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধার কবলে পড়তে পারে। এতে বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা পৌঁছাতে পারে বর্তমানের রেকর্ড ৩১ কোটি ৯০ লাখের ওপরে।
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) -এর উপ নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ জেনিভায় সাংবাদিকদের একথা বলেছেন। তিনি বলেন, এতে বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সর্বকালের রেকর্ড গড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।
স্কাউ জানান, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজে পণ্য পরিবহনের খরচ ১৮ শতাংশ বেড়ে গেছে। কিছু জাহাজের পথ পরিবর্তন করতে হচ্ছে। দাতারা প্রতিরক্ষাখাতে বেশি ব্যায়ের দিকে মনোনিবেশ করায় ডব্লিউএফপি’র ব্যয় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, বর্তমান সংকটের কারণে ভারত থেকে সুদান পর্যন্ত তাদের পণ্য পরিবহনের পথে অতিরিক্ত ৯,০০০ কিলোমিটার দূরত্ব বেড়ে গেছে। সুদান বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
জ্বালানিসংকটের কারণে কেবল ত্রাণ পরিবহনের খরচই বাড়ে না বরং অন্যান্য অনেক খরচও বেড়ে যায়। স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ২,৫০০ নৌ-সেনা (মেরিন) এবং একটি উভচর যান পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এই বড় ধরনের শক্তি বৃদ্ধির খবর নিশ্চিত করেছেন। এই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, জাপানের ওকিনাওয়ায় মোতায়েন থাকা ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনাল ইউনিটের সদস্য এবং উভচরযান ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’-কে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে ত্রিপোলিকে তাইওয়ানের কাছ দিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইরান উপকূলে পৌঁছাতে পারে। মেরিন এক্সপিডিশনাল ইউনিটের সদস্যরা সাধারণত সমুদ্রপথে অবতরণ, দূতাবাস সুরক্ষা এবং উদ্ধার ও ত্রানকাজে পারদর্শী।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং আটটি ডেস্ট্রয়ারসহ ১২টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ৮,০০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
নতুন মেরিন বাহিনী মোতায়েন হতে চলার খবর প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
সামরিক পর্যবেক্ষকদের কারও কারও আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘদিন চলতে পারে আঁচ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান আরও জোরদার করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সেকারণেই হয়ত নতুন করে এই সেনা ও উভচার যান পাঠানো।
যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে উভচর যান থেকে সাধারণত পদাতিক বাহিনী স্থলভূমিতে অবতরণ করে। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী পারস্য এবং ওমান উপসাগরের পথে ইরানে স্থল অভিযান শুরু করতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ তখনই শেষ হবে “যখন আমি তা অন্তরে অনুভব করব।” ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি কিছুটা রক্ষণশীল মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, “অস্ত্রহীন সাধারণ মানুষের পক্ষে বর্তমান সরকারকে হটানো অনেক কঠিন বাধা,” বিশেষ করে ইরানের বাসিজ বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে।
ইরান ইসরায়েল ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত রুদ্ধ হয়ে থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল।
ওদিকে, ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি কেন্দ্রীয় স্কয়ারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে এবং ইসরায়েলের ধ্বংস চেয়ে আয়োজিত এক বার্ষিক সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিল।
বিস্ফোরণে হতাহতের কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি। তবে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই গণ-সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ইসরায়েলের হামলার হুমকি, উভয়ই এই যুদ্ধের তীব্রতাকে ফুটিয়ে তুলছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে টালমাটাল করে দিলেও থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালির গোলকধাঁধাসদৃশ লবণের গুহা এবং পান্না রঙের ম্যানগ্রোভ বনের নিচে এক ভিন্ন ধরনের স্থাপত্য সমাহিত হয়ে আছে।
এক সময় পর্যটকরা এই ‘উন্মুক্ত ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর’ দেখতে ভিড় করতেন এর পরাবাস্তব শিলা গঠন দেখার জন্য; কিন্তু বিশ্বের নজর এখন প্রবাল প্রাচীরের নিচের সেই অংশের দিকে, যা ইরানের ‘মাটির নিচের ক্ষেপণাস্ত্র নগরী’ হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কেশম দ্বীপটি এক সময়ের মুক্ত বাণিজ্য ও পর্যটন স্বর্গ থেকে যুদ্ধের সামনের সারির দুর্গে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন করা মার্কিন নৌ-সেনাদের কাছে এটি এখন কৌশলগতভাবে মূল্যবান এক দ্বীপ।
প্রায় ১,৪৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল দ্বীপটি পারস্য উপসাগর থেকে প্রণালির প্রবেশপথকে ভৌগোলিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথে দ্বীপটি যেন একটি ‘ছিপি’র মতো কাজ করে।
দ্বীপটির ১ লাখ ৪৮ হাজার বাসিন্দার বেশিরভাগই সুন্নি মুসলিম, যারা স্বতন্ত্র ‘বান্দারি’ উপভাষায় কথা বলেন। তাদের জীবন আজও এই প্রাচীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক সামরিক উত্তেজনার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
আজও তাদের জীবন সমুদ্রের ওপর নির্ভরশীল, যা প্রতি বছর ‘নওরোজ সায়্যদি’ বা জেলেদের নববর্ষের সময় উদযাপন করা হয়। সমুদ্রের প্রতি সম্মান জানাতে সেদিন সব ধরণের মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়।
কিন্তু গত ৭ মার্চ যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন বিমান হামলায় দ্বীপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ লোনা পানি শোধনাগার ধ্বংস হয়ে যায়। তেহরান একে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ‘চরম অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে।
ওই হামলার ফলে আশেপাশের ৩০টি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর দ্রুত প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) বাহরাইনের মার্কিন ‘জুফায়ার’ ঘাঁটিতে হামলা চালায়। তাদের দাবি, প্রতিবেশী কোনো উপসাগরীয় দেশ থেকেই কেশম দ্বীপে ওই হামলা চালানো হয়েছিল।
আল জাজিরা লিখেছে, ১৯৬৪ সালে জন্ম নেওয়া সোলাইমানি তরুণ বয়সে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরে যোগ দেন।
ধীরে ধীরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হন। পরে আইআরজিসির কয়েকটি ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন।
২০১৯ সাল থেকে বাসিজ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন গোলামরেজা সোলাইমানি।
আইআরজিসির অধীন এই স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনীতে আনুমানিক সাড়ে চার লাখ সদস্য রয়েছে। এ বাহিনীর নেতা হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত ছিরেন সোলাইমানি।
ইরান সরকারের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত সোলাইমানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আল জাজিরা লিখেছে, ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে সংযত ও বাস্তববাদী একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত আলি লারিজানি দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের সমর কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন তিনি।
১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেওয়া লারিজানি ইরানের আমোলের একটি বিত্তশালী পরিবারের সন্তান। প্রভাবশালী ওই পরিবারকে একসময় ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল টাইম ম্যাগাজিন।
লারিজানির বাবা ছিলেন একজন খ্যাতিমান ধর্মীয় পণ্ডিত। ২০ বছর বয়সে তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুর্তজা মোতাহারির মেয়ে ফরিদেহ মোতাহারিকে বিয়ে করেন।
সমসাময়িক অনেক নেতার তুলনায় লারিজানির শিক্ষাজীবন ছিল তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ। তিনি গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি নেন এবং পরে জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের দর্শন নিয়ে গবেষণা করে পাশ্চাত্য দর্শনে ডক্টরেট করেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরে যোগ দেন। পরে সরকারে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন; সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেন। এক সময় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির প্রধানও ছিলেন।
২০০৫ সালে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারির দায়িত্ব পান লারিজানি। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের নেতৃত্বও দেন তিনি। তবে পরে সেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
২০০৮ সালে লারিজানি এমপি হন এবং টানা তিন মেয়াদে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি অনুমোদনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০২৫ সালের অগাস্টে লারিজানি আবার নিরাপত্তা কাউন্সিলের সেক্রেটারি পদে ফিরে আসেন এবং তার পর থেকে তেহরান প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন।
ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি ইসরায়েলি এবং বাসিজ ইউনিটের কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তেহরান।
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি বলেছেন, লারিজানিকে হত্যার ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়া হবে।
এক বিবৃতিতে হাতামি বলেন, “উপযুক্ত সময় ও স্থানে অপরাধী আমেরিকা এবং রক্তপিপাসু জায়নিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে একটি সমুচিত জবাব দেওয়া হবে, যাতে তাদের অনুতাপ হয়।”
লারিজানি এবং অন্যান্য ‘শহীদদের’ মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন হাতামি।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইতোমধ্যে লারিজানিকে হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নিতে মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী সোমবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং শিরাজ ও তাব্রিজ শহরে একযোগে হামলা চালায়। এর মধ্যে তেহরানে দুটি হামলায় আলি লারিজানি ইসরায়েলি ও গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
আপনাদের সঙ্গে আছি আফসার বিপুল ও জাহিদুল কবির।
লাইভ
3 views
7 impressions
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!